রবিবার, ১৬ Jun ২০২৪, ১০:০৫ অপরাহ্ন

ঘোষনা :
  সম্পূর্ণ আইন বিষয়ক  দেশের প্রথম দৈনিক পত্রিকা   দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল এর  পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা   । 
চলুন ঘুরে আসি সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়াতে

চলুন ঘুরে আসি সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়াতে

এ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলে খ্যাত কুষ্টিয়াকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটার বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারী পৃষ্টপোষকতার অভাবে তা আজও সম্ভব হয়নি। অথচ রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য শিলাইদহের কুঠিবাড়ি এবং বাউল সম্রাট লালনের সাধনভূমি ছেউরিয়াকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের যুগযুগ ধরে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে চলেছে। এর বাইরে প্রখ্যাত সাহিত্যিক মীর মোশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা, কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতিচিহ্ন, টেগরলজ, মোহিনী মিল, রেণউইক যজ্ঞেশ্বর বাঁধ, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্পের প্রধান পাম্প হাউজ, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং লালন শাহ সেতুকে ঘিরে সব সময় মুখরিত থাকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের পদচারণা। ‘বাংলার রূপ আমি দেখিয়াছি, পৃথিবীর রূপ আর দেখিতে চাই না’ রূপসী বাংলা সম্পর্কে কবির বিখ্যাত উক্তির সত্যতা মেলাতে আমাদের বেরিয়ে পড়তে হবে ঘর-সংসার ত্যাগ করে, ব্যাপারটি তা নয়। তবে সুযোগ খুঁঁজতে হবে। প্রকৃতির লীলভূমি অবলোকনে আগ্রহ থাকতে হবে। সময় সুযোগে স্বল্প সময়ের জন্য ঘরছাড়া হতে হবে। অন্বেষণ করতে হবে বাংলার বুকে ধারণ করা লুকায়িত সৌন্দর্য। ইচ্ছে করলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন।

 

শিলাইদহ কুঠিবাড়ি :
কুষ্টিয়া শহর থেকে ১ ঘন্টারও কম সময়ে যাওয়া যাবে কুঠিবাড়ি। চারদিকে বাগান বেষ্টিত এ মনোরম পরিবেশে আপনার সারাদিন থাকতে ইচ্ছা করবে। কুঠিবাড়ির ভেতরে কবিগুরুর ব্যবহার্য বিভিন্ন আসবাবপত্র, বাইরে বকুলতলার পুকুকঘাট এবং পাশ্ববর্তী পদ্মার পাড়ও আপনাকে মুগ্ধ করবে। ইচ্ছে করলে কুঠিবাড়ি সংলগ্ন খোরশেদপুরে গ্রামের কামেল কিংবদন্তি পুরুষ হজরত খোরশেদ উল মৌলুকের মাজারও ঘুরে আসতে পারেন।

লালন শাহের মাজার :
শহরসংলগ্ন কালিগঙ্গা নদীর তীরে লালনের সাধনভূমি ছেউড়িয়া গ্রাম। এখানেই লালন শাহ এবং অন্যান্য সাধুর মাজার ও লালন মিউজিয়াম। এই মাজারে প্রবেশ করতেই হয়তো আপনার মনে বেজে উঠবে সেই মরমী সুর ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর সেখা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তারে ………….।’ যদিও এই মাজার চত্বর আর আগের মতো নেই। এখানে শহুরে ভাব এসেছে, তবুও ভালো লাগবে আপনার। এখানে বসে বাউলের গান শুনে প্রাণ জুড়িয়ে নিতে পারেন।

 

 

মীর মোশাররফের বাস্তুভিটা :
উনিশ শতকের অন্যতম মুসলিম সাহিত্যিক, ‘বিষাদ সিন্ধুর’ রচয়িতা মীর মোশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা লাহিনীপাড়ার দুরুত্ব মাত্র ২০ মিনিটের। ১৮৪৭ সালে জন্ম নেওয়া মহান এই সাহিত্যিকের শৈশবের অনেক স্মৃতিই খুঁজে পেতে পারেন এখানে।

 

 

কাঙ্গাল কুঠির :
শহর থেকে ৪০ মিনিটের দূরত্ব কুমারখালী উপজেলা। এই উপজেলা শহরের মধ্যখানে অবস্থিত। কুষ্টিয়ার প্রথম সংবাদপত্র ‘গ্রামবার্তা’ প্রকাশিকা’র সম্পাদক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের বাড়ি ‘কাঙ্গাল কুঠির’। ১৮৬৩ সালে কুমারখালীর বাংলা পাঠশালার প্রধান শিক্ষক কাঙ্গাল হরিনাথ এম এন প্রেস থেকে এই পত্রিকার প্রকাশ শুরু করেন। গাছ-গাছালিতে ভরপুর এই কাঙ্গাল কুঠিরে আপনি দেখতে পাবেন কাঙ্গালের শেষ স্মৃতিচিহ্ন, যা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে নিঃশেষ হতে চলেছে। এই গ্রামবার্তা প্রকাশিকাতে এক সময় নীলকরদের বিরুদ্ধে এবং অত্যাচারী জমিদার ও লাঠিয়ালদের বিরুদ্ধে কাঙ্গাল হরিনাথ কলম ধরেছিলেন।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের টেগর লজ

টেগর লজ ও মোহিনী মিলস :
কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান টেগর অ্যান্ড কোম্পানীর এ দেশীয় শাখা অফিস টেগর লজ। কবিগুরু কলকাতা থেকে শিলাইদহে আসার পথে এই টেগর লজে বিশ্রাম নিতেন। লাল টকটকে দ্বিতল এই ভবনটির পেছনেই রয়েছে অবিভক্ত বাংলার প্রথম ও প্রধান বস্ত্রকল ‘মোহিনী মিলস’। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা এই মোহিনী মিলও আপনি ঘুরে দেখতে পারেন। কথিত আছে, মোহিনী মিলের হুইসেলের শব্দ শুনে এলাকাবাসী তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম শুরু করতেন।

 

রেণউইক বাঁধ :
শহরের গড়াই নদী সংলগ্ন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আখ মাড়াই কলের যন্ত্রাংশ তৈরীর কারখানা ছিল রেণউইক অ্যান্ড যজ্ঞেশ্বর কোম্পানি। ছায়াঘেরা সুন্দর পরিবেশের এই কোম্পানির শেষ প্রান্তে নদীর তীরে গড়ে তোলা হয়েছে শহর রক্ষা ‘রেণউইক বাঁধ’। শত শত মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। ইচ্ছা করলে নদীতে একটু নৌকা ভ্রমণ করা যায়।

 

ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ :
দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন কুষ্টিয়া ঝাউদিয়া জামে মসজিদ। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের জমিদার আহমেদ আলী সুফী নিজ বাড়িতে এই ঐতিহাসিক শাহী মসজিদটি নির্মাণ করেন। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বৃত্তিপাড়া থেকে পায়ে হেঁটেও এ মসজিদে যাওয়া যায়। আজও এর স্থাপত্যকলা ও নির্মাণ কৌশল দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

 

ভেড়ামারার হযরত গোলাপ শাহ ও ঘোড়াশাহ এর মাজার :
ভেড়ামারার পদ্মা নদীর পাড়ে রয়েছে আধ্যাতিক সাধক হজরত গোলাপ শাহর মাজার। বিশাল এলাকা জুড়ে এ মাজার প্রাাঙ্গন দর্শনার্থী ভক্তদের পদচারনায় সব সময় থাকে মুখরিত। এখানকার নৈসরিক দৃশ্য র্পযটকদরে মন কেড়ে নেয়। ভেড়ামারা শহরের পশ্চিম পাশে নদীর ধারে অবস্থতি ঘোড়াশাহ এর মাজার অর্পূব দর্শনীয় ও জায়গাটি একবার দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে।

 

বিআরবি গ্র“প :
কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত বিআরবি গ্র“প। ভারী শিল্পের সমাহার রয়েছে এখানে। নতুন শিল্প উদ্যোক্তাদের শুধু নয়, পর্যটকদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বর্পূণ স্থান হতে পারে। বিআরবি গ্র“প একের পর এক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে একদিকে যেমন কুষ্টিয়াকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলছে অন্যদিকে অনেক বেকারের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আবার সরকাররেও রাজস্ব আয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুন।

 

 

একের ভিতরে তিন :
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, ভেড়ামারা পাম্প হাউস ও লালন শাহ সেতুর অবস্থান প্রায় একই স্থানে। শহর থেকে ২৫ কি.মি. দূরে কুষ্টিয়া-পাবনা জেলার মধ্যবর্তী পদ্মাপাড়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় এই তিনটি স্থাপনা। পূর্বানুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্পের (জিকে) প্রধান পাম্প হাউসে। এর পাশাপাশি পাবনা এবং কুষ্টিয়া জেলাকে একত্রিত করে রেখেছে যে দুটি অনন্য স্থাপনা, তা হচ্ছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন সেতু। দুই সেতুর মধ্যবর্তী পদ্মা পাড়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

 

কীভাবে যাওয়া যাবে:
ঢাকা থেকে হানিফ, বিআরটিসি, শ্যামলী এবং লালন পরিবহনের বাস টেকনিক্যাল মোড় থেকে ছাড়ে। এ বাসগুলো যায় আরিচা/ পাটুরিয়া হয়ে। এভাবে গেলে কুমারখালী নেমে শুরুতেই আপনি দেখে নিতে পারেন কাঙাল হরিনাথের বাড়ি। তারপর এখান থেকে বাসে মীর মশাররফের বাড়ি হয়ে লালনের আখড়া। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া এসবি পরিবহন (এসি/ননএসি), শ্যামলী পরিবহন (এসি/ননএসি), সফি ফাতেমা এ বাসগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যায়। এভাবে গেলে কুষ্টিয়া শহরে নেমে প্রথমে লালনের আখড়া, মীর মশাররফ হোসেনের বাড়ি, রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি তারপর হরিনাথের বাড়ি। সময় ২ দিন হলে ভালো হয়। যারা অন্য শহর থেকে আসবেন তারা কুষ্টিয়া শহরে নেমে একই ভাবে যেতে পারেন, আবার কুমারখালী নেমে যেতে পারেন। সঙ্গে যদি গাড়ি থাকে তাহলে তো ইচ্ছেমতো ঘুরতে পারেন।

 

কোথায় থাকা যাবে
কুষ্টিয়ায় থাকার অনেক হোটেল আছে। হোটেল পদ্মা, হোটেল জুবলি, গোল্ডেন স্টার (এসি, নন এসি)। ভাড়া পড়বে ২০০-৬০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া অনুমতি নিয়ে জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় থাকা যায়।

 

 

এই সংবাদ টি সবার সাথে শেয়ার করুন




দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  © All rights reserved © 2018 dainikinternational.com
Design & Developed BY Anamul Rasel