রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ১২:২৩ অপরাহ্ন

ঘোষনা :
  সম্পূর্ণ আইন বিষয়ক  দেশের প্রথম দৈনিক পত্রিকা   দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল এর  পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা   । 
সংবাদ শিরোনাম :
স্বেচ্ছায় যৌনকর্ম করা কী অপরাধ? মা দিবসে মায়েদের নিয়ে ইবি রোটার‍্যাক্ট ক্লাবের ক্রীড়া ও ফল উৎসব নারী শিশু আইনে মিথ্যা মামলায় জামিন ও মুক্তির উপায়! ইবিতে ‘প্লান্ট সাইন্স’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার  শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় করবে ইবি এবং তুরস্কের ইগদির বিশ্ববিদ্যালয় চেকের মামলায় সাফাই সাক্ষী বনাম আসামীর নির্দোষিতা! খোকসার জনগনের সাথে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুল আখতার। খোকসার জনগনের সাথে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুল আখতার। কুমারখালীতে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের নিকট দোষস্বীকারে সাক্ষ্যগত মূল্য বনাম বাস্তবতা!
কিভাবে শরীকানা সম্পত্তির ন্যায্যতা পাবেন?

কিভাবে শরীকানা সম্পত্তির ন্যায্যতা পাবেন?

 

এ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক: আমরা ওয়ারিশ হিসেবে আমাদের উত্তরাধিকারের জমি পেয়ে থাকি। আমাদের বাবা বা মা-এর মৃত্যু হলে ভাই বোনেরা জমির মালিক হই। এছাড়াও আমরা যেসব আত্মীয় বা আপনজনের সম্পত্তির ওয়ারিশ তাদের মৃত্যুতে জমির অংশীদার হই। আমরা বিয়ে করে একে একে আলাদা সংসার করি। তখন আমাদের পাওনা জমি ভাগাভাগি করে নেয়ার দরকার হয়। মৃতের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি করে নেয়ার ব্যাপারে ভূমি অফিসের উদ্যোগ নেয়ার রেওয়াজ নেই। এমনিতে ভাইয়ে-ভাইয়ে বা ভাইয়ে-বোনে সদ্ভাব থাকলে বাটোয়ারার কথা মুখফুটে বলতে চায় না। জমিজমা ভাগ করার ব্যাপারে কোর্টে গেছে জানলে মান-সন্মানের হানি হয়, সময় বেশি লাগে, উকিল লাগাতে হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। যারা কখনও কোর্ট-কাচারিতে যাননি তারা যেতে ভয় পান। সমাজে এটাই প্রচলন। তার উপর বাটোয়ারা মামলা করা! যারা বাপের ভিটা ছেড়ে অন্যত্র চাকরি করে, বিয়ে করে স্বামীর সংসার করে তাদের জন্য আরো অসুবিধা।
বিভিন্ন ভাবে সম্পত্তি ভাগাভাগি করা হয়। আমরা নিজেরা একমত হয়ে মিলেমিশে জমি মেপে ভাগাভাগি করে নিতে পারি। আবার গ্রামের মুরুব্বি দিয়ে বা সালিশ মেনে ভাগ করে নিই। এতে বড় একটা অসুবিধা হয় না। সে অনুযায়ী দখল নিয়ে নামজারি ও জমাভাগ করে পৃথক জোত খুলে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে পারি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করাও হয় তাই। লিখিতভাবে বাটোয়ারা করা হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বাটোয়ারা দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয়। কিন্তু সাধারণত তা করা হয় না।
যখন নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব থাকে না গোলযোগ দেখা দেয় বা একজন শক্তিশালী হয়, তখনই বিগড়ে যায়। নিজেরা আর আপসে বাটোয়ারা করতে পারে না। অসচেতনতার কারণে কোন শরিক ভাগাভাগি না করে অন্যের কাছে তার অংশের জমি বিক্রি করে দিয়েও গোলযোগের সূত্রপাত করে। এমনও দেখা গেছে মুখে মুখে প্লট অনুযায়ী ভাগ করে নিয়ে কোন শরিক তার অংশের জমি বিক্রি করে দিয়েছে। এরপর অন্য শরিক প্রতি প্লট থেকে অংশ দাবি করে বিক্রি করা প্লটের অংশ পুনরায় অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে কম দামে এই ধরনের জমি প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। ক্রেতা যাতে সন্দেহ না করে সে জন্য বিক্রেতা শরিকগণ যোগসাজসে একজন আরেকজনের বিক্রি দলিলে সাক্ষী হয়। লিখিত বাটোয়ারা না থাকায় বা এলাকার লোক না হওয়ায় ক্রেতাকে অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়। অবসর জীবনে নীরবে বাস করতে যারা শহরের আশেপাশে অনেক কষ্ট করে জীবনের সকল সঞ্চয় দিয়ে একখন্ড জমি কিনেছেন, তাঁদের অনেকেই এ ধরনের সমস্যায় পড়েছেন।
নিজেরা আপসে বাটোয়ারা করতে না পারলে ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের বাটোয়ারা আইন অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করে জমি ভাগাভাগি করে নেয়া যায়। ৫০০ টাকা কোর্ট ফি দিয়ে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করা যায়। জমি দখলে না থাকলে বাটোয়ারা মামলার করার সময় দখল দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য আদালতে আবেদন করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে স্বত্বের বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়। বাটোয়ারা মামলায় নালিশী খতিয়ানের সকল শরিককে অবশ্যই পক্ষ করতে হবে। খতিয়ানের বা মৃত ব্যক্তির ত্যক্ত সমূদয় সম্পত্তির বিবরণ আর্জির তফসিলে উল্লেখ করতে হবে। আর্জি হতে বাদ পড়ে যাওয়া কোনো শরীক যে কোনো সময় আদালতে আবেদন করে মামলার পক্ষ হতে পারে। বিবাদীও ইচ্ছা করলে নিজ অংশের বাটোয়ারা চাইতে পারে। বাটোয়ারা মামলায় দুই ধরণের ডিগ্রি হতে পারে। মামলা দায়েরের পর উভয় পক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় প্রাথমিক বা প্রিলিমিনারি ডিক্রি দেয়া হয়। পক্ষগণকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ডিক্রি অনুযায়ী জমি ভাগ করে নেয়ার জন্য বলা হয়। নিজেরা ভাগ করে নিতে না পারলে আদালতে আবেদন করতে হয়। আদালত জরিপ জ্ঞানসম্পন্ন উকিল দিয়ে উকিল কমিশনের মাধ্যমে জমি সরজমিনে বাটোয়ারা করে দেয়। উকিল কমিশনের দেয়া এই বাটোয়ারা প্রতিবেদন ডিক্রির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এইভাবে দেয়া ডিক্রিকে ফাইনাল বা চূড়ান্ত ডিক্রি বলে। এই ডিক্রির সাথে বাটোয়ারার মাধ্যমে প্রাপ্য অংশের মূল্যমান মোতাবেক কোর্ট ফি দিতে হয়। প্রাথমিক বা চূড়ান্ত যে কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।

একটি বাটোয়ারা মামলার গল্পের উদাহরণ
কমেলার বাবা ছোট বেলায় মারা যাওয়ায় অনেক কষ্টে নানার বাড়ি মানুষ হয়েছে। মামারা তার বিয়ে দিয়েছে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। স্বামীর সংসারে সে ভালই আছে। মোটামুটি সচ্ছল তাদের সংসার। তার মা বেঁচে আছে, মামাদের বাড়ি থাকে। কমেলার দাদার ষোল বিঘা জমি ছিল। তার বাপ চাচারা দুই ভাই। কমেলার বাবার ভাগে আট বিঘা জমি পড়ার কথা। কিন্তু কমেলার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে কমেলা আর বাবার ভিটায় থাকতে পারেনি। থাকতে পারেনি তার মাও। এক মেয়ে হলে বাবার জমির অর্ধেক পায়। কমেলা তার বাবার জমি থেকে প্রায় চার বিঘা জমি পাবে। কমেলার মা পাবে এক বিঘা। কমেলার চাচারা এই জমি দিতে অস্বীকার করে। কমেলার চাচারা মনে করে কমেলা মেয়ে তাকে কোন জমি না দিলে এখানে এসে জমি ভোগদখল করতে পারবে না। জমি কমেলার দখলেও নেই। কমেলা ভাবে দেশে সরকার আছে, অফিস আদালত আছে। তার বাবার ন্যায্য জমি কেন সে পাবে না? দেশ তো আর মগের মুল্লুক না! কমেলার চাচার প্রতিবেশীরা কমেলার জমি দখলে সাহায্য করার প্রস্তাব দেয়। কমেলার স্বামী উকিলের কাছ থেকে জেনেছে যে, সে এই জমি দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করে পেতে পারে। তবে জমিতে স্বত্ব থাকলেও জোর করে দখল নেয়া বেআইনি। এতে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা হবে। জেল জরিমানা হতে পারে। অনেক টাকা খরচ হবে, দখল দিতে গিয়ে খুন জখম হতে পারে।
তাকে অনেকে বলেছে দেওয়ানি আদালতে মামলা করে জমি পেতে যুগ যুগ চলে যাবে। মামলায় জিতলেও জমিতে গেলে খুন খারাবি করে ফেলবে। রহিমা ভাবল আমি যদি ভাল উকিল ধরি, মামলায় হাজিরা দিই, সাক্ষী হাজির করি। অন্যপক্ষ গড়িমসি করলে আদালতে তার বিষয়টি তুলে ধরি, এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের বুঝিয়ে আমার ন্যায্য দাবির কথা, কষ্ট দেয়ার কথা বলি, কিংবা মামলায় জেতার পর জমি বিক্রি করে দেই তাহলে তো আমার কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না।
যে কথা সেই কাজ। রহিমা দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মোকদ্দমা করল। মামলায় কমেলার চাচারা বারবার তারিখ নেয়। মাস্তান ছেলেদের দিয়ে হুমকি দেয়। কিন্তু কমেলার স্বামী মামলার পিছনে জোঁকের মত লেগে আছে। তিন বছর পর কমেলা রায় ডিক্রি পেল। আদালত থেকে দখল দিয়ে দিয়েছে। কমেলা এখন তার বাবার জমির মালিক। এক জনের কাছে বর্গা দিয়েছে। কোর্ট থেকে দখল দেয়ায় কমেলার চাচারা এই জমিতে হাত দেয়ার সাহস পায় না। কমেলার চাচারা এই জমিতে হস্তক্ষেপ করলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করতে পারবে। এতে কমেলার চাচাদের জেল জরিমানা হতে পারে।
মহিলাদের বাবা, মা, আত্মীয় স্বজনের জমিতে স্বত্ব থাকে কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি যাওয়ার জন্য এই জমি ভোগ দখলে থাকে না। স্বত্ব বলতে কোন জমিতে কারও অধিকার বুঝায়। জরিপ আসলে পুরুষ অংশীদাররা নিজ নামে মহিলা অংশীদারদের জমি রেকর্ড করে নেয়। তাই কিছু বছর পর এই জমির আর হদিস পাওয়া যায় না। বাটোয়ারা মোকদ্দমা করে এই জমি উদ্ধার করা যায়। বাটোয়ারা মোকদ্দমার বাদীর দখলও থাকে না। দখল থাকলে বাটোয়ারা মোকদ্দমা করার দরকার হয় না। ঘোষণামূলক মোকদ্দমা করলেই হয়। কিন্তু বাটোয়ারা মোকদ্দমার করার ক্ষেত্রে শুধু মালিকানার অংশীদার হলেই চলে কোন দখলের দরকার হয় না। তাই বাটোয়ারা মোকদ্দমার সাথে খাস দখলের আবেদন করতে হয়।

 

এই সংবাদ টি সবার সাথে শেয়ার করুন




দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  © All rights reserved © 2018 dainikinternational.com
Design & Developed BY Anamul Rasel