শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

ঘোষনা :
  সম্পূর্ণ আইন বিষয়ক  দেশের প্রথম দৈনিক পত্রিকা   দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল এর  পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা   । 
সংবাদ শিরোনাম :
ইবি উপাচার্যের ১৪তম অডিও ফাঁস!

ইবি উপাচার্যের ১৪তম অডিও ফাঁস!

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য শেখ আবদুস সালামের একের পর এক অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।  সর্বশেষ মঙ্গলবার বিকেলে ‘দরবেশ সালাম’ নামক আইডি থেকে ১৪তম অডিও প্রকাশ করা হয়।

২মিনিট ২৩সেকেন্ডের ওই ফোনালাপে বলতে শোনা যায়, নজরুল ভালো আছো? হ্যা আছি আছি তোমাদের দোয়ায়। হ্যা গত মাসে এত ব্যাস্ত ছিলাম আর ওখানে জায়গাটা খুব উত্তপÍ। হু তো এ কি বলে? আরে কেবলে একটা শেষ করলাম তো তার আগের ব্যাচটাতো কেবল শেষ করলাম তাইনা? তখন লোকে বলবে যে একেবার শেষ করে .. দিছি ব্যাপারটা কি বোঝ না। আমার তবে খুব দ্রুত হয়ত দিয়ে দিব সামনের আর দুই তিনটা আগের অ্যাডভারটাইজমেন্টের অন্য নিয়োগ টিয়োগ আছে টিচার্স নিয়োগ আছে। এর ভিতরে আমি অন্যদের বলে দিয়েছি আর কোথায় কি আছে সেইগুলো আমার সামনে আনো। এই লটারি দিয়ে দিব আরকি। না ওটা তুই এতো ই হইছিস কেনো? বললামতো পাঁচ মাস সাত মাস বা.. রে নজরুল। না? এখোনো? ওদের একইসাথে দুটো দিব ওইজন্যে ওর ওর গুলো ক্লিয়ার মানে ওই পদটা আর আরো চারটা পদ আছে তোমার হেল্পার। সাথে দুটো দিয়ে ওরে বলো যে তুই দু যায়গায় কর। আরে না দু যায়গায় বোঝ না কত লোকে কত ই থাকে। জিনিসতো একই আমাদের ওখানে গাড়ির সব হেল্পাররা বড় গাড়ি চালায়। না না যাতে মিস না যায়। মিয়া তোমার কথা মতো একটারে টানার চেষ্টা করতেছি আবার আরেকটা গোছাইছো না? আচ্ছা ভালো থাকো হ্যা? ভালো থাকো বলে রাইখে সুযোগ হলে যেমন আমার যখন সুযোগ হবে তোমারে বলে এটারে আমি কাছে নিয়েছি। এখন সময়ের ব্যাপার হ্যা? আচ্ছা রাখি হ্যা? আমি একটু বাইরে বের হবো।

এর আগের দিন প্রকাশ হওয়া ১মিনিট ৫১সেকেন্ডের অডিও ক্লিপে বলতে শোনা যায়- জ্বি আমি ঢাকায় আসছি। কালকে যাব। ওই ১২ তারিখে আমাদের একটা মিটিং ছিল। ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে। কয়েকটা সার্কুলার দিয়েছে বোধ হয় গত কাল বা গত পরশু। শোনেন ওই ভাই আপনার যদি মানে নিদৃষ্ট যেটা একেবারে দিতেই হবে এরকম জিনিসটা হ্যা? এইটাই আমাকে টার্গেট, ই করে রাখবেন আরকি আর.. হু ওটাতো ভাস্তে আর ঐ যে একটা ভাইজি না ভাইজি ছিল না ইকোনোমিকস এর জন্য। হু আমি ওইটা নিয়ে কিন্তু একটা ইয়ে খুজে পাচ্ছি না। ওটা আমি একেবারে মনেই রাখছি ও ফার্স্ট সেকেন্ড রাউন্ড আমি ওরে করবো। তো আচ্ছা যাহোক কি? হু.. ও কি কেবল অ্যাড গেছে তাইতো? আপনি ওই অ্যাপ্লাই ট্যাপ্লাই করে ও যখন আপনার ভাইবা কার্ডটা পাবে আরকি হ্যা? অথবা একটু ওই যেন একটু খবর রাখে যাতে আবার ওই ভাইবা থেকে ওই ইসের থেকে বাদ না পড়ে আরকি। আপনি ওকে বলেন যে ও আগে অ্যাপ্লাই করে এসে আমার সাথে দেখা করুক প্রথমে যে আমিও তাকে ভাইবাতে আপনার পরে ইতে তো আসতে হবে ভাইবা পর্যন্ত তো আসতে হবে। রিক্রুটমেন্ট যে রুলসগুলা এইগুলা কিন্তু এতটুকু অনার করতে হবে। আপনি আমার কাছে পাঠান ওর নামটা বলেন তো। জুবায়ের জুবায়ের। আচ্ছা ওকে আপনি যাস্ট আপনার রেফারেন্স দিয়ে বলেন ও যেন সরাসরি আমার সাথে দেখা করে। ঠিক আছে। জ্বি।’

‘রক সালাম’ আইডি থেকে গত ৯ ও ১০ জুন মধ্যরাতে ভাইরাল হওয়া দুটি অডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টস, মার্কেটিং বিভাগ এবং মেডিকেলের নিয়োগ সম্পর্কে বলা হয়েছে। একটি অডিওতে ‘নিয়োগে ডিসিশন পেন্ডিং রাখা’ এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেলে প্রার্থীকে আবেদন করতে বলা হয়েছে। অপর প্রান্তের ব্যক্তির ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে না- এমন কথা বলতে শোনা যায় ইবি উপাচার্যকে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে ফারাহ জেবিন, মিসেস সালাম, রক সালাম নামে পৃথক পৃথক ফেসবুক আইডি থেকে উপাচার্যের নিয়োগ সংক্রান্ত ১২টি অডিও ফাঁস হয়। এতে চাকরির প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য শোনা যায়।

এদিকে, অডিও ভাইরালের ফলে দীর্ঘদিন নিয়োগ বোর্ড স্থগিত থাকার পর সোমবার আবারো নিয়োগ বোর্ড চালু হয়। অডিও ভাইরালের কোন সুরাহা না হয়েই নিয়োগ বোর্ড চালু হওয়ায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ জুন) উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনটি পদের বিপরীতে ১৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন। এছাড়াও এক জন সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পদের বিপরীতে ৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন। এদিন পরীক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া ও প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী সহিদ উদ্দীন মোঃ তারেক। এছাড়ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এ বি এম মামুনুর রশীদ।

মঙ্গলবার (১৩ জুন) প্লাম্বার পদের ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন টি পদের বিপরীতে সাত জন চাকরি প্রত্যাশী অংশগ্রহন করেন। এছাড়াও এক জন ইলেকট্রিশিয়ান পদের বিপরীতে অংশগ্রহন করেন দশ জন চাকরি প্রত্যাশী। ভাইভায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল কে এম সালেহ।

বুধবার  (১৪ জুন) পূর্বে লিখিত পরীক্ষা হওয়া ৩ জন চিকিৎসক পদের ভাইভা ও ১ জন চিকিৎসক পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, অডিও ভাইরালের সুরাহা না হওয়ার পরও যদি নিয়োগ বোর্ড হয় তাহলে তো এটা আরো সন্দেহের জন্ম দেয়। আমরা শিক্ষক হিসেবে তো কিছু করতে পারি না। সর্বোচ্চ তাকে বা সরকারকে অবহিত করতে পারি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই সংবাদ টি সবার সাথে শেয়ার করুন




দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  © All rights reserved © 2018 dainikinternational.com
Design & Developed BY Anamul Rasel