সোমবার, ১৩ Jul ২০২০, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

ঘোষনা :
  সম্পূর্ণ আইন বিষয়ক  দেশের প্রথম দৈনিক পত্রিকা   দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল এর  পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা   । 


খোকসা পাইলট হাইস্কুলে অধ্যয়নকালীন স্মৃতির সমাহার!

খোকসা পাইলট হাইস্কুলে অধ্যয়নকালীন স্মৃতির সমাহার!

 

শাহাবদ্দিন সম্রাট, ব্যাচ:১৯৯৮:

সম্ভবত ১৯৯৫ সাল। আমি তখন হাই স্কুলে পড়ি। আমি ক্লাশ ক্যাপ্টেন ছিলাম। (আমি ষষ্ঠ – দশম শ্রেনী পর্যন্ত ক্লাশ ক্যাপ্টেন ছিলাম)।
আমি আর টিপু (টিপু মারা গেছে)। দুজন মিলে ঠিক করলাম আমরা পিকনিকে যাবো। মেহেরপুর আম্রকাননে। তখন আমি আর টিপুক্লাশে অনেক পরিচিত মুখ। আমি আর টিপু আমাদের ক্লাশে সবার সাথে আলাপ করলাম।
বন্ধুদের মধ্য তখন আমার প্রিয় মুখ গুলি হচ্ছে ( মিঠু ,মাসুদ সুমন (কালীবাড়ী এলাকার) চয়ন ,ইমরান ,এনামুল ,টুটুল,সুব্রত। আরিফ (মোড়াগাছা এলাকার)। অন্জন ,দিপংকর,শাহীন। আরো অনেকেই।
ক্লাসের অন্য সব বন্ধুদের সাথে আলাপ করলাম। মুটামুটী সবাই রাজী হলো যাওয়ার ব্যাপারে। অনেকেই বললো যদি স্যারেরা অনুমতি দেন তাহলে যাবো।
তখন আমি আমাদের মনোয়ার স্যারের খুব প্রিয় ছাত্র ছিলাম। আমি আর টিপু মনোয়ার স্যারের কাছে গেলাম আলাপ করতে। স্যার সব শুনে বললেন যে,মতিন স্যারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তার পরে তোরা যাওয়ার ব্যপারে সিদ্ধান্ত নে। মতিন স্যার তখন আমাদের হেড স্যারের দায়িত্বে ছিলেন।
আর স্যারের দেখে আমরা খুবই ভয় পেতাম। স্যার খুব মারতো। যে কোন ব্যাপারে একটু উনিশ-বিশ হলেই স্যার খুব মারতো। সব সময় জোড়া বেত নিয়ে ঘুরতো।
এখন মতিন স্যারের নিকট গিয়ে বলা টাই কঠিন কাজ। সহজে কেউ যেতে রাজী হোন না। কি করা যায়।স্যার কে বলবো কি ভাবে। এটা নিয়ে চিন্তায় পরে গেলাম।
আমি ,টিপু ,মাসুদ ,সুমন ,মিঠু ,আরিফ,ইমরান ,চয়ন ,এনামুল,রাসেল,সবাই মিলে সাহস করে মতিন স্যারের নিকট গেলাম। স্যার কে বললাম, স্যার সব শুনে, সরাসরি বলে দিলেন, আমি অনুমতি দিতে পারবো না।লেখাপড়া বাদ দিয়ে তোরা এই সব চিন্তা ভাবনা করছিস কেন। যদি তোদের রেজাল্ট খারাপ হয়।তখন দেখিস কি হয় তোদের।
গেলাম পিকনিকের অনুমতি নিতে। অনুমতি তো দিলোই না। আবার ভিতরে ভয় ঢুকিয়ে দিলো। তাও আবার হেডস্যারের কাজ থেকে।
বের হয়ে আসার পরে ক্লাসের সবাই জেনে গেছে স্যার অনুমতি দেন নাই। তখন আমাদের পিকনিকে যাওয়ার ব্যপারে অনেক টাই অনিশ্চিত হয়ে গেল।
সিদ্ধান্ত নিলাম পিকনিকে যাবোই যাবো। স্যারেরা যাই বলুক আমরা যাবোই।
তখন আমাদের খোকসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন তাতারী খান সাহেব। আমরা ঐ সময়ে তার বিভিন্ন মিছিল মিটিং এ যেতাম। মিছিল মিটিং গেলেই আমাদের নাস্তা খাওয়াতো। আবার এই সব কিছুর দায়িত্ব ছিল বাবু ভাই ও রাজু ভাইয়ের উপর।
টিপু ,মাসুদ ,মিঠু ,সুমন ,জিয়া ,জিকু এদের সবার বাড়ীই আমাদের খোকসা কালীবাড়ী এলাকাই। মোড়াগাছা থেকে আরিফ তার নিজ এলাকা থেকে ,আতিক, আরো বেশ কয়েকজন কে নিয়ে অন্যদিকে মানিককাট থেকে ইমরান ,মতিন ,তৌহিদ ,(তৌওহীদ মারা গেছে )মতিন ,জিকু। কমলাপুর থেকে আমি ,চয়ন সুব্রত ,অন্জন ,দিপংকর ,এনামুল ,রাসেল ,টুটুল।আরো অনেকেই বিভিন্ন এলাকার থেকে সবাই একসাথে গেলাম আমাদের খোকসার চেয়ারম্যান তাতারী খান সাহেবের বাড়ীতে।
বললাম স্কুল থেকে হেড স্যার আমাদের কে পিকনিকে যেতে নিষেধ করছেন। কিন্তু পিকনিকে আমরা যেতে চাই।
চেয়ারম্যান সাহেব সব শুনে বললেন ,তোরা পিকনিকে যাওয়ার সব কিছু রেডী কর। স্কুল থেকে কিছু বললে আমি দেখবো। সাথে বাবু ভাই কে দায়িত্ব দিলেন। (বাবু ভাই এখন খোকসা পৌরসভায় চাকরী করেন)। আমাদের পিকনিক টা যেন সুন্দর ভাবে সম্পাদন করতে পারি এই জন্য বাবু ভাইকে আমরা সব কিছু জানাতাম।
যেহেতু স্কুল থেকে আমাদের যেতে দিতে রাজী হয় নাই। সেই কারনে আমাদের ক্লাসের কয়েকজন বন্ধু
যেতে সাহস পেলেন না। অধিকাংশ বন্ধুরা রাজী হলেন। আমার এবং টিপুর সাথে সব বন্ধুদের খুব ভাল সম্পর্ক ছিল।
সবার নিকট থেকে চাঁদা তুললাম। আমি বাস ভাড়া করলাম। চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের সহযোগীতা করলেন। তখন আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান ও আমাদের সহযোগীতা করছিল। গনি মেম্বর কাকা সুলভ বস্ত্রালয় আরো অনেকেই। টিপু দুই টা বড় বড় খাসি ছাগল কিনে এনে স্কুলের ভিতরেই রেখে দিলো। অন্য যাবতীয় কাজ আমি টিপু চয়ন একসাথে করলাম।
এছাড়াও টিপু, সুমন ,আরিফ ,ইমরান ,চয়ন এরাও অনেক পরিশ্রম করেছে।
মনোয়ার স্যার ছাগল কেনা দেখে বলে,তোদের কপালে দুঃখ আছে তোরা যা শুরু করেছিস।
নির্দিষ্টদিনেই আমরা রওনা দিলাম মেহেরপুর আম্রকাননের উদ্দেশ্য। কিন্তু আমাদের সাথে বাবু ভাইয়ের যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার দিন বাবু ভাই গেলেন না। বললেন আমি যাবো না। তোদের সাথে ডলার যাবে। ডলার ভাইও আমাদের প্রিয় একজন বড় ভাই ছিলেন।
সবাই সারাদিন অনেক মজা করলাম। পুকুরে গোসল করা। বিশাল আম বাগান দেখলাম। যেখানে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়েছিল। সবাই খুব আনন্দ করে দুপুরে
সেই খাসির মাংস দিয়ে সাদা ভাত আর ডাল দিয়ে রান্না করা খাবার খেলাম। মজাই আলাদা। ছবি তুললাম। বিকেলের দিকে রওনা দিলাম।
সবাই ভালভাবে পৌঁছালাম। অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল ঐ দিন পৌঁছাতে।
পরের দিন স্কুলে গেছি। ক্লাশ রুমে ঢুকার সাথে সাথে যারা আমাদের সাথে যায় নাই তারা বললো তোদের কে স্যারেরা উপরে দোতলায় স্যার দের রুমে ডেকেছে।
সবাই গেলাম স্যার দের কাছে। গিয়ে দেখি আমাদের হেড স্যার সহ সব স্যারে রা একসাথে বসে আছে। বুঝতে বাকী নেই যে কিছু একটা হবে এবার। ভয়ে তো সবার হাত পা কাপাকাপি শুরু হয়ে গেছে। আকাম তো করে ফেলেছি।
মতিন স্যার বললো, তোরা পিকনিকে গেছিলি এর লিডার কে,কে, তারা আমার সামনে আসুক। স্যার কিন্তু জোড়া বেত নিয়ে বসে আছে।
আমি ,টিপু ,মাসুদ ,আরিফ ,সুমন ,এগিয়ে গেলাম।
বললাম স্যার আমরা।
মাসুদ ,সামনে ছিলো মতিন স্যার উঠে মাসুদ দিলো ৪/৫ টা বারি। এরপরে আমরা ছিলাম পিছনে। স্যার মাসুদ কে মারার সাথে সাথেই আমরা সবাই বলা শুরু করেছি। স্যার আমাদের ভুল হয়ে গেছে। আর এমন হবে না। স্যার আমাদের কথা শুনে বসে পড়লেন। এরপর কিন্তু স্যার আমাদের আর মারধর করে নাই।
অনেক বুঝিয়ে আমাদের কে ক্লাশে পাঠিয়ে দিলেন।
পরে আমাদের সাথে যারা যেতে পারে নাই তারা অনেক আফসোস করেছে।
(টিপু আর তৌওহীদ কে আল্লাহ জান্নাত বাসী করুন)

লেখক পরিচিতিঃ খোকসার কমলাপুর বাড়ি। বর্তমান ঢাকাতে প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্টস ব্যবসায়ী

এই সংবাদ টি সবার সাথে শেয়ার করুন




দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  © All rights reserved © 2018 dainikinternational.com
Design & Developed BY Anamul Rasel