রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:০১ অপরাহ্ন

ঘোষনা :
  সম্পূর্ণ আইন বিষয়ক  দেশের প্রথম দৈনিক পত্রিকা   দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল এর  পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা   । 
সংবাদ শিরোনাম :
জমি-জমা নিয়ে যে কোন ধরণের বিরোধ দেখা দিলে কি করবেন? জমি অধিগ্রহণ কি, কেন, কখন, কিভাবে? নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু আইনে প্রথম রায়ঃ অনুকরণীয়, অনুসরণীয় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা না করার আদেশ বনাম আইন ও সংবিধান! নাবালক সন্তান উদ্ধার কিংবা অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করবেন কিভাবে? স্বামী বা স্ত্রীর পরকীয়ার ভয়ঙ্কর পরিণতি ও আইনী প্রতিকার! উন্মাদ বা পাগলের প্রতি নির্দয় আচরণ করলেই শাস্তি! স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর সন্তান কার কাছে থাকবে! খোকসার এক কৃতি ছাত্র, সফল মানুষ ও সুখী মানুষের প্রতিচ্ছবি! কুমারখালীর বাঁশগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ধান কেটে নিয়েছে জোতদাররা


খোকসা জানিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির ইতিকথা

খোকসা জানিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির ইতিকথা

 

শিশির কুমার ঘোষ:
আমি ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ (স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য পরীক্ষা হয় ১৯৭২ এ) পর্যন্ত এ স্কুলে পড়েছি। স্কুল তখন দোতালা ছিল না, তাই ছিল না এই সিঁড়ি আর নামের সংগেও ছিল না “পাইলট”। একতারপুর থেকে এ স্কুলে ৫/৬ বছর হেঁটে যাতায়াত করেছি। এ স্কুলের অনেক স্মৃতি আজও মনে গাঁথা আছে।
প্রথম ভর্তির দিনের স্মৃতিটা বলি। ভর্তির আগে এ স্কুলে পা রেখেছিলাম প্রথম ১৯৬৫ সালে ডিসেম্বরের দিকে (এ বছর পাক-ভারতের যুদ্ধ হয়) প্রাইমারী স্কলারশিপ পরীক্ষা দিতে এসে। পরীক্ষার শেষের দিনে ইনভেজিলেটর আমার অ্যাডমিট কার্ড দেখে খাতা সাইন করার পর আর আমি কার্ডটি তুলি নাই, বাড়ি গিয়ে দেখি কার্ড নেই, মনটা খারাপ হয়ে গেল।
যাক সে কথা, আমরা প্রাইমারি পড়তাম ঈশ্বরদী প্রাইমারী স্কুলে। ১৯৬৪ সালে এই স্কুলের হাই স্কুল খোলার চিন্তা হয় এবং যথারিতি ১৯৬৫ সালে প্রাইমারী থেকে পাশ করা ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে হাই সেকশন স্টার্ট করা হয়। সে হিসেবে আমরাও ১৯৬৬ সালে ভর্তি হই ঈশ্বরদী স্কুলে ক্লাস সিক্সে। মার্চ মাস, ক্লাস করছি লাইব্রেরীর পাশের রুমে। এ সময় লাইব্রেরিতে খুব হাঁসাহাসি শুনতে পেলাম। তারপর হাইস্কুলের জন্য একমাত্র নিয়োগকৃত শ্রদ্ধেয় ভগীরথ স্যার এসে আমাদের জানালেন আমাদের স্কুল থেকে তিনজন প্রাইমারী স্কলারশিপ পেয়েছে। আমাদের তখনকার প্রাইমারী স্কুলের হেড মাষ্টার, শ্রদ্ধেয় সুলতান স্যার জানিপুর থেকে সংবাদ নিয়ে এসেছে, তবে নাম বলতে পারলেন না। তখন আমি আর মদন, যারা স্কলারশিপ প্রাপ্তির ব্যাপারে কনফার্ম ছিলাম, আমরা দু’জন ছুটলাম জানিপুর, তারপর খবর পেলাম আমি আর মদন আমরা দু’জন টেলেন্টপুলে (তখন বলতো রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপ) আর আমাদের আর এক বন্ধু স্বপন পেয়েছে সাধারণ গ্রেডে। ইতি মধ্যে মদনের কাকা বাবু সহদেব এর সংগে দেখা, উনি মদনকে ওনার সাইকেলে চাপিয়ে বাড়ি নিয়ে এলেন আর আমি চোত মাসের দুপুরে হাঁটা শুরু করলাম বাড়ি একতারপুরের দিকে। গ্রামের কাছা কাছি পৌছে দেখি আমার এক ক্লাস ফ্রেন্ড, নাম বিপদ ভঞ্জন বিশ্বাস ( কানু ) আম্র কাননে গাছের নিচে পাটি পেরে বসে পড়াশুনা করছে। আমাদের সময় গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না গরম কালে ভর দুপুরে গাছের নিচে পাটি পেতে পড়ার প্রচল। ছিল চোত মাসের প্রচন্ড গরমে হাঁটতে হাঁটতে গলাটা শুকিয়ে গেছে। ওর কাছে গিয়ে বসলাম, ওকে এক ঘটি জল আনতে বললাম, জল আনলো তারপর জল খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।
এবার ভর্তি, যেহেতু আমরা স্কলারশিপ পেয়েছি, ঈশ্বরদী হাই স্কুল তখনও এফিলেসন পায়নি তাই ভর্তি হতে হবে খোকসা স্কুলে। পড়াশুনার ব্যাপারে আমাদের সর্বসাথী বা উপদেষ্টা বা গাইড যাই বলি উনি ছিলেন, আমাদের এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় বাবু অতুল কৃষ্ণ রায় (অতুল বাবু, তিনি ঈশ্বরদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, পরে অবসরে যাওয়ার পর ঈশ্বরদী হাই স্কুলের অনারারি শিক্ষক ছিলেন, ওনার ধ্যান জ্ঞান ছিল এলাকার ছাত্র ছাত্রীদের মানুষের মত মানুষ করা)। ওনার সংগে আমরা তিনজন খোকসা স্কুলে আসলাম ভর্তির জন্য। অতুল বাবু নিয়ে গেলেন আকবর স্যারের (অফিস সহকারী) কাছে। তখন যেহেতু ভর্তি সব শেষ, আমাদের ভর্তি করলেন সি-সেকশনে (তিনটা সেকশন ছিল, ছাত্রছাত্রী প্রায় ১০০ জন) মাসে চার আনা গেম ফি, স্কলারশিপ এর জন্য বেতন মাফ।
আর একটা ঘটনা, যেহেতু আমরা স্কলার, সেহেতু আমরা সি-সেকশনে ভর্তি হলেও ক্লাস করতাম এ-সেকশনে। গবিন্দ দা (দপ্তরী) সি-সেকশনে রোল কলের পর আমাদের তিন জনের জন্য প্রতিদিন খাতা নিয়ে আসতো এ সেকশনে। তারপর শুরু হলো ক্লাস, সিক্স থেকে ফাস্ট হয়ে সেভেন এ উঠলাম, শুরু হলো পথচলা খোকসা-জানিপুর হাই স্কুলে। ১৯৭১ সালের পরীক্ষা ১৯৭২ সালে দিয়ে বেড়িয়ে গেলাম স্কুল থেকে।
আমাদের সময়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মন্ডলী ঃ-
সর্ব জনাব –
মো: আলতাফ হোসেন ( প্রধান শিক্ষক ) । এম এ, বি এড। খোকসা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল।
বাবু শক্তি পদ পাল ( বি এস সি ড্রিসটিংশন ]
ফজলুর রহমান ( এম এ ) পরে খোকসা কলেজের প্রিন্সিপাল।
বাবু হিরন্ময় বিশ্বাস।
আলী ইমাম।
আফজাল হোসেন।
খগেন্দ্র নাথ পন্ডিত ( পন্ডিত স্যার )
মৌলভী স্যার। ( নাম মনে নাই )।
কুতুবউদ্দিন।
এন্তাজ উদ্দিন।
দিয়ানত আলী।
মজিবর রহমান ( গেম টিচার )।
আকবর হোসেন ( প্রধান অফিস সহকারী )।
মোনব্বর হোসেন। ( অফিস সহকারী )
গোবিন্দ দা ( পিওন )।
আফজাল স্যারের নিয়ে একটা গল্প আছে।
উনি কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে বি এ পাশ করতে না পেরে, তারপর যেবার পাশ করলেন, সেবার স্কুলের সকল ছাত্রকে মিষ্টি খাইয়ে ছিলেন। উনি ক্লাসে ক্লাসে বলে দিলেন, তোমরা বাড়ি ফেরার পথে আমার বাজারের দোকান থেকে মিষ্টি নিয়ে যাবে। আমরা সে মোতাবেক তার দোকান থেকে মিষ্টি মুখ করে ছিলাম।

লেখক: প্রাক্তন ছাত্র, খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, উপ-পরিচালক ( অবঃ ), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এই সংবাদ টি সবার সাথে শেয়ার করুন




দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  © All rights reserved © 2018 dainikinternational.com
Design & Developed BY Anamul Rasel