মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

ঘোষনা :
  সম্পূর্ণ আইন বিষয়ক  দেশের প্রথম দৈনিক পত্রিকা   দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল এর  পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা   । 


নারীর প্রতি যৌন সুড়সুড়িঃ আইনী প্রতিকারে এত বাঁধা কেন?

নারীর প্রতি যৌন সুড়সুড়িঃ আইনী প্রতিকারে এত বাঁধা কেন?

এ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক:

সদ্য বিধবা রহিমা (৩০) ছদ্মনাম। খুবই করুণ অবস্থা তার। দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তার। এরই মধ্যে সে জানতে পারল সরকার বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। বিধবা ভাতা পাওয়ার আশায় রহিমা ছুটে যায় স্থানীয় ইউপি মেম্বরের কাছে। কিন্তু বিধিবাম! এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলার জন্য রহিমাকে পাঠিয়ে দেয় ওই মেম্বর। চেয়ারম্যান তার বাড়িতে কিছুদিন কাজ করে দেওয়ার শর্তে একটি বিধবা কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এক বুক আশা নিয়ে রহিমা চেয়ারম্যানের বাড়িতে কাজ করা শুরু করে। কিন্তু চেয়ারম্যান নানা অজুহাতে তার সাথে অশালীন আচরণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে অসহ্য হয়ে রহিমা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দ্বারস্থ হয় একজন আইজীবীর কাছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনে যৌন পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিকারের কথা আছে। যদি কোন ব্যক্তি আপনার যৌন কামনা বা ইচ্ছা চরিতার্থ করার জন্য বলপ্রয়োগ করে বা যৌন কামনা চরিতার্থে কোন অঙ্গ স্পর্শ করে বা উদ্দেশ্যমূলক বা ইচ্ছাকৃতভাবে যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করে বা কোন বস্তু দ্বারা যৌন অঙ্গ স্পর্শ করে তাহলে ওই ব্যক্তি যৌন পীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত হবে। সাধারণভাবে বলা যায়, আমাদের সামাজিক রীতিনীতি কিংবা আচার-আচরণের সঙ্গে মানানসই নয়, এমন যে-কোনো ব্যবহার বা আচরণই অশালীন আচরণ। যেমন- ক) অনাকাঙ্খিত যৌন আবেদনমূলক আচরণ (সরাসরি অথবা ইঙ্গিতে) যেমনঃ শারীরিক স্পর্শ বা এ ধরণের প্রচেষ্টা, খ) প্রাতিষ্ঠানিক বা পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করে কারও সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা, গ) যৌন হয়রানি বা নিপীড়নমূলক কথা বলা, ঘ) যৌন সুযোগ লাভের জন্য অবৈধ আবেদন, ঙ) পর্ণগ্রাফি দেখানো, চ) যৌন আবেদনমূলক ভঙ্গি, ছ) অশালীন ভঙ্গী, যৌন নির্যাতনমূলক ভাষা বা মন্তব্যের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা, কাউকে অনুসরণ করা বা পিছন পিছন যাওয়া, যৌন ইঙ্গিতমূলক ভাষা ব্যবহার করে ঠাট্টা বা উপহাস করা, ঞ) ব্লাকমেইল অথবা চরিত্র লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে স্থির বা চলমান চিত্র ধারণ করা, ট) যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির কারনে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিক্ষাগত কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হওয়া, ঠ) প্রেম নিবেদনে করে প্রত্যাখ্যান হয়ে হুমকি দেয়া বা চাপ প্রয়োগ করা, ড) ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বা স্থাপনে চেষ্টা করা। এছাড়াও ভীড়ের মধ্যে অহেতুক নারীদের সাথে ধাক্কাধাক্কি ও শারীরিকভাবে নারীদের শ্লীলতাহানিতে ব্যস্ত হয়ে উঠে এই বখাটেরা এবং শাস্তি, ডিমোশন, চাকুরিচ্যুত ইত্যাদির ভয় দেখিয়ে যৌন সুবিধা নিতে চাওয়াটা এধরণের আচরণের অন্তর্ভুক্ত। কিংবা অফিসের পার্টিতে নাচার ছলে, লিফটে গা ঘেঁষে, গাড়িতে পাশাপাশি বসে কেউ এই কাজ করলেও সেটাও যৌন হয়রানির অন্তর্ভূক্ত হবে।

যৌন পীড়ন বা নারীর প্রতি অশালীন আচরণের ক্ষেত্রে দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩৫৪ এবং ধারা ৫০৯, ধারা ২৯৪ এ শাস্তির কথা বলা আছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরী পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬, ধারা-৭৬ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা-১০, ৯ক এ যৌন পীড়নের শাস্তি এবং বাংলাদেশ সংবিধানের ৩২ ও ৩৬ অনুচ্ছেদে এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ৩৪ অনুচ্ছেদে এ সর্ম্পকে বলা আছে।

দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩৫৪ঃ কোন ব্যক্তি নারীর শালীনতা নষ্ট করার অভিপ্রায়ে বা তার শালীনতা নষ্ট হতে পারে জেনে-শুনে কোন নারীকে আক্রমন করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা জাপটে ধরে বা স্পর্শকাতর অঙ্গ সমূহে স্পর্শ করে বা ব্যক্তিগত মর্যাদার হানি ঘটায় তাহলে ওই ব্যক্তি ৩৫৪ ধারার অপরাধে অভিযুক্ত হবে। এ অপরাধের শাস্তি দু’ বছরের কারাদ- অথবা জরিমানা অথবা উভয়বিধ দ-। তবে কোন স্বামী তার শালীনতা নষ্ট করেছেন মর্মে অভিযোগ করা যাবে না। (পিএলডি ১৯৬০ (ঢাকা) ৮৮০)। পর্দানশীন কোন মুসলিম মহিলার বোরকা টানলে এবং তা ছিড়ে ফেললে এ ধারার অপরাধে অভিযুক্ত হবে। (১৯৮২ পিএচসি ৬৯৮)

দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৫০৯ঃ যে ব্যক্তি কোনো নারীর শালীনতার অমর্যাদা করার অভিপ্রায়ে ওই নারী যাতে শুনতে পায় এই উদ্দেশ্যে কোনো মন্তব্য করে বা এমন কোন কথা বলে, কোনো শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি করে বা কোনো বস্তু প্রদর্শন করে অথবা নারীর গোপনীয়তা অধিকার লঙ্ঘন করে কিংবা উক্ত নারীর নির্জনবাসে অনাধিকার প্রবেশ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি বিনাশ্রম কারাদন্ডে-যার মেয়াদ এক বৎসর পর্যন্ত হতে পারে বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হবে। স্কুল কলেজগামী মেয়েদের রাস্তাঘাটে দেখে শীষ দেওয়া, গান গেয়ে উঠা, চোখ বাঁকা করে তাকানোসহ যে কোন অঙ্গভঙ্গি এ ধারার আওতাভূক্ত হবে।
এছাড়া একদল যুবক যদি কলেজের অবকাশ যাপনরত একদল বালিকাকে অনুসরণ করে, অশ্লীল মন্তব্য করে এবং তাদের প্রতি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে, তাদের একজনকে ভালবাসার গান গেতে বলে এবং অতি প্রিয়জন বলে উল্লেখ করে, কয়েক ঘন্টা বিরক্ত করে, তাহলে অন্যান্য সদস্যদের প্রতি ৩৪ ধারা প্রয়োগ সম্পূর্ণরুপে ন্যায়সঙ্গত। (মোঃ শরীফ বনাম রাষ্ট্র, ৯ ডিএলআর, সুপ্রীমকোর্ট, ১২৭)

অপরিচিত এবং অবিবাহিত এক ইংরেজ নার্সের কাছে আসামী অশ্লীল প্রস্তাব সম্বলিত একটি চিঠি ডাকযোগে প্রেরণ করে। এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, অভিযোগকারীর শ্লীলতাহানি করাই আসামীর উদ্দেশ্য ছিল। (এআইআর ১৯২৬ (বোম), ১৫৯)

দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ২৯৪ঃ বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ২৯৪ ধারায় বলা হয়েছে ‘‘যে ব্যক্তি, অন্যদের বিরক্তি সৃষ্টি করে (ক) কোন প্রকাশ্য স্থানে কোন অশ্লীল কার্য করে অথবা (খ) কোন প্রকাশ্য স্থানে বা সন্নিকটে কোন অশ্লীল গান, গাঁথা সঙ্গীত বা পদাবলী গায়, আবৃত্তি করে বা উচ্চারণ করে; সেই ব্যক্তি যে কোন বর্ণনায় কারাদন্ডে যার মেয়াদ ৩ মাস পর্যন্ত হইতে পারে বা অর্থদন্ডে বা উভয়দন্ডে দন্ডনীয় হবে’। এই আইন দ্বারা ছোট ছোট ঘটনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা সম্ভব।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা-১০ঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ধারা-১০ অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোন নারীর শ্লীলতাহানী করেন তাহলে তার এ কাজ হবে যৌন পীড়ন। সেকারণ উক্ত ব্যক্তি অনধিক ১০ বৎসর কিন্তু অনূন্য ৩ বৎসর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হবেন।
তবে কোন মহিলার সম্মতি থাকলে এ ধারায় শাস্তি দেয়া যায় না। (১৯৮২ পিএসসি ৯৬৮)

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা-৯কঃ কোন নারীর সম্মতি ছাড়া বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত কোন কার্য দ্বারা সম্ভ্রভ্রমহানির প্রত্যক্ষ কারণে কোন নারী আত্মহত্যা করলে তার শাস্তির বিধান এই আইনের ৯ (ক) ধারায় রাখা হয়েছে যা সর্বোচ্চ ১০ বৎসর এবং অন্যূন ৫ বৎসর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবে এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হবে।

ঢাকা মহানগরী পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬, ধারা -৭৬ ঃ যদি কেউ কোনো রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বা সেখান হতে দৃষ্টিগোচরে স্বেচ্ছায় এবং অশালীনভাবে নিজ দেহ এমনভাবে প্রদর্শন করে যা কোনো গৃহ বা দালালের ভিতর হতে হোক বা না হোক, কোনো মহিলা দেখতে পায়, অথবা স্বেচ্ছায় কোনো রাস্তা বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে কোনো মহিলাকে পীড়ন করে বা তার পথ রোধ করে অথবা রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে অশ্লীল আওয়াজ, অঙ্গভঙ্গি বা মন্তব্য করেকোনো মহিলাকে অপমান বা বিরক্ত করে, তবে সেই ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদন্ড অথবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানাদন্ড অথবা উভয় প্রকার দন্ডে দন্ডনীয় হবে।

এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ৭৫ ধারায় ‘সর্ব সমাজে অশালীন বা উচ্ছৃঙ্খল আচরনের শাস্তি হিসেবে তিন মাস মেয়াদ পর্যন্ত কারাদন্ড বা ৫০০ শত টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ড’- শাস্তির বিধান আছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ৩২ ও ৩৬ অনুচ্ছেদঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে ‘‘আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না’’ এবং ৩৬ অনুচ্ছেদে ‘‘জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাঁধা নিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, এর যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতি স্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে’’। ফলে কোন নারী যদি রাস্তায় বা কর্মক্ষেত্রে টিজিং-এর শিকার হন তাহলে তা সংবিধানে দেওয়া অধিকার খর্ব বলে ধরে নেয়া যায়।

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ৩৪ অনুচ্ছেদঃ এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘‘অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রসমূহ সকল প্রকার যৌন নিপীড়ন এবং যৌন নির্যাতন থেকে শিশুকে রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকবে। তা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রসমূহ জাতীয়, দ্বিপাক্ষিক এবং বহু পাক্ষিক সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে”। এই অনুচ্ছেদে অশ্লীল যৌন আচরণ বা বিষয়বস্তুতে শিশুদের অপব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে ও পদক্ষেপ নিতে রাষ্ট্রকে আহবান জানানো হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা আজও বাস্তবায়ন হয়নিঃ

২০০৮ সালের ৭ আগষ্ট বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধের দিক নির্দেশনা চেয়ে রিট (রিট পিটিশন নম্বর ৫৯১৬/২০০৮) দায়ের করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ মে-২০০৯ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মাদ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকি; কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সব সরকারি-বেসরকারি, আধা-সরকারি অফিস এবং সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে সমিতি ২০১০ সালে আরও একটি রিট পিটিশন (রিট পিটিশন নম্বর ৮৭৬৯/২০১০) দায়ের করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২৫ জানুয়ারি-২০১১ আরও কিছু নির্দেশনা প্রদান করে। দু’দফা নির্দেশনা দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী, আইন বিশ্লেষক ও আইন গ্রন্থ প্রণেতা। Email:seraj.pramanik@gmail.com, মোবাইল: ০১৭১৬-৮৫৬৭২৮

এই সংবাদ টি সবার সাথে শেয়ার করুন




দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  © All rights reserved © 2018 dainikinternational.com
Design & Developed BY Anamul Rasel