বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

ঘোষনা :
  সম্পূর্ণ আইন বিষয়ক  দেশের প্রথম দৈনিক পত্রিকা   দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল এর  পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা   । 
গুচ্ছে যাওয়া নিয়ে বিভক্ত ইবি শিক্ষক সমিতি

গুচ্ছে যাওয়া নিয়ে বিভক্ত ইবি শিক্ষক সমিতি

ইবি প্রতিনিধি

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। শনিবার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ মতানৈক্য দেখা দেয়। এতে ১৫ সদস্যের কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক ছাড়া অন্যদের ৭ জন গুচ্ছে না যাওয়ার পক্ষে এবং ৬ জন গুচ্ছের পক্ষে মত দেন। ফলে সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গুচ্ছে না যাওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত হলে গুচ্ছে আগ্রহী পক্ষের ৬ জন ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেন।

সভা সূত্রে জানা যায়, পূর্বের সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুচ্ছে না যাওয়ার মত ছিল শিক্ষক সমিতির। তবে ইউজিসি ও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সভায় এজেন্ডা আকারে আলোচনা হয়। এতে পূর্বের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সহসভাপতিসহ ৬ জন নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করেন। নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া শিক্ষকরা দাবি করেন, যেহেতু গুচ্ছে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী ইবিকে কেন্দ্র হিসেবে চয়েজ দিয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইবিকে গুচ্ছে অন্তভূক্ত করার নির্দেশনার বিষয় উল্লেখ করে গুচ্ছের আহ্বায়ক অনুরোধ করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে গুচ্ছ থেকে বের হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে প্রগতিশীল শিক্ষকদের দুই প্যানেল থেকে ১৫ জন সদস্য নির্বাচিত হয়। এতে বর্তমান প্রশাসনপন্থী শিক্ষকরা সভাপতিসহ ৭টি পদে এবং সাবেক প্রশাসনপন্থীরা সাধারণ সম্পাদকসহ ৮টি পদে জয় পায়। ফলে কমিটির সদস্যরা সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। সভায় সভাপতিপন্থী শিক্ষকরা গুচ্ছে যাওয়ার পক্ষে এবং সাধারণ সম্পাদকপন্থীরা শিক্ষকরা গুচ্ছে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গুচ্ছে না যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে সভাপতিপন্থী শিক্ষকরা নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করে।

নোট অব ডিসেন্টদানকারী সমিতির সহসভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু ইতোমধ্যে, ইউজিসি, সরকারের বিভিন্ন মহল ও গুচ্ছের আহ্বায়ক যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারের বক্তব্য হতে সুস্পষ্ট হয়েছে যে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় সরকারের অভিপ্রায় রয়েছে। এছাড়াও এ বছরে ১৫ হাজারেরও অধিক ভর্তিচ্ছু কেন্দ্র হিসেবে আবেদন করেছেন। তাই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের দুর-দুরান্তের অভিবাবকদের দুশ্চিন্তা নিরসনে আমি মনে করি এই বছরের মত গুচ্ছের বাইরে যেয়ে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভর্তির নামে কালক্ষেপণের আর সুযোগ নেই।’

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘দিখণ্ডিত হওয়ার কোন বিষয় না। নোট অব ডিসেন্ট দেওয়ার অধিকার আছে যে কারো। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। আমরা সিদ্ধন্ত বিভাগগুলোকে চিঠি আকারে পাঠাবো। গুচ্ছের আবেদন প্রক্রিয়ায় ইবির যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো আমরা শিক্ষক প্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত নিইনি। এরআগেই কীভাবে গুচ্ছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন এটি আমার বোধগম্য নয়।’

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থাকায় সভাপতি হিসেবে আমি কোন পক্ষে মত দিতে পারিনা। নিয়ম অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতই সিদ্ধান্ত। তবে, একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং গুচ্ছে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গুচ্ছে অংশ নেওয়া উচিৎ।

এই সংবাদ টি সবার সাথে শেয়ার করুন




দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  © All rights reserved © 2018 dainikinternational.com
Design & Developed BY Anamul Rasel