ঢাকাবৃহস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

কেস ডকেট বা ডায়েরী একটি মামলার পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি

admin
মার্চ ২৯, ২০২৫ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
শেয়ার:
Link Copied!

এ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক

পুলিশ অফিসার কর্তৃক যে মামলার তদন্ত হয়ে থাকে তার সমগ্র বিষবস্তু কেস ডকেটে ফুটে ওঠে। তদন্তকারী অফিসার অন্যত্র বদলী হলে মামলার পরবর্তী তদন্তকারী অফিসার পূর্বের বিবরণী ও তদন্তের ফলাফল দেখে মামলার তদন্তকার্য সম্পন্ন করে থাকেন। বিচারকালে বিচারক কেস ডাইরী পর্যালোচনা করে দেখেন যে, কিভাবে মামলা তদন্ত করা হয়েছে তার বিষয়বস্তু অনুধাবন করে থাকেন। তদন্তকারী অফিসার আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে কেস ডাইরী থেকে তদন্তের বিষয়বস্তু স্মরণ করতে পারেন। কেস ডাইরী থেকে আসামী পক্ষের আইনজীবী জেরা করতে পারেন। মামলা প্রমাণের ক্ষেত্রে কেস ডায়েরীর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কেস ডায়েরী সাক্ষ্য আইনের ৩৫ ও ১৫৯ ধারা মোতাবেক এর সাক্ষ্যগত মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। অভিযোগপত্রের সঙ্গে আদালতে কেস ডায়েরির কপিও জমা দিতে হয়। এত দিন ধরে সেটি দেওয়া হচ্ছে নির্ধারিত ফরমে হাতে লিখে। এখন এটিকে ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সব পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে হাতে লেখার কারণে সংরক্ষণসহ নানা ধরনের সমস্যা হয়।

থানায় কোনো মামলা দায়ের হলে প্রথমে মামলা তদন্ত করে পুলিশ। আর সে মামলায় পুলিশ তদন্তের সময় বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দি, সিজারলিস্ট (জব্দ তালিকা), অভিযোগপত্র, সাক্ষীর ১৬১ ধারার জবানবন্দি, সূচিপত্র, মানচিত্র, ঘটনার স্থানের বিবরণ, চিকিৎসকের সনদ, ডাক্তারের জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত, সুরতাহাল ও মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে সংরক্ষণ করেন। সেসব দলিল মামলার অভিযোগপত্র দায়ের করার সময় আদালতে পুলিশ দাখিল করেন। এর পরে মামলার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ, সাক্ষী, চিকিৎসকদের আদালতে এসে সাক্ষ্য দিতে হয়। কিন্তু প্রায়ই পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় যে, অমুক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার কেস ডকেট হারিয়ে গেছে কিংবা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কিংবা বিনষ্ট হয়ে গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী কেস ডকেট তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে সব কাগজ দাখিল করে দেন। আর সেসব কেস ডকেট সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিকে বুঝিয়ে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আদালতের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য সেগুলো সরকারি কৌঁসুলিদের (পিপি) না দিয়ে নিজেদের কাছে রেখে অব্যবস্থাপনায় সেগুলোর বিনষ্ট করে ফেলে কিংবা হারিয়ে ফেলে।

গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলায় সাক্ষ্যের অভাবে এমনিতেই আসামিরা খালাস পেয়ে যান। আবার অনেক মামলায় সাক্ষীরা নিয়মিত না আসায় মামলার কার্যক্রমে অনেক স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। ফলে কেস ডকেট হারিয়ে যাওয়ায় প্রসিকিউশন পক্ষে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এ ছাড়া অনেক মামলার বয়স ১০ বছর পার হয়ে গেছে। সেসব মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ১০ বছর আগে তদন্ত করেছেন। এত দীর্ঘ সময়ে তদন্ত কর্মকর্তার কোনো তথ্য মনে থাকে না। আদালতের কেস ডকেট দেখে তার মামলার সাক্ষ্য দেন। যেকোনো মামলার প্রাণ হলো কেস ডকেট। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সাক্ষীদের সাক্ষ্য জরুরি। কেননা, একজন বিচারক মামলার বিচার করার সময় সাক্ষীদের জবানবন্দি আর জেরা পর্যালোচনা করেন। কিন্তু কেস ডকেট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কিংবা হারিয়ে যাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তারা ভালোমতো সাক্ষ্য দিতে পারেন না। রাষ্ট্রপক্ষ কেস ডকেট ছাড়া মামলার সাক্ষীদের কোনো সহায়তা করতে পারেন না। আর এতে আসামিরা মামলা থেকে খালাস পেয়ে যায়।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।