নারীরা কথায় কথায় শত্রু পক্ষের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলার ভয় দেখায়। বিশেষ করে স্ত্রীরা স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দম ট্রাইবুন্যালে যৌতুকের জন্য মারধরের অভিযোগ এনে ১১ (গ) কিংবা (খ) ধারায় মামলা করে থাকে। এছাড়া ধর্ষণ, নারী পাচার, শিশু পাচার, নারী ও শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা, যৌন নিপীড়ন, মেয়ে প্রেম করে প্রেমিকার সাথে চলে গেলেও অভিভাবকের পক্ষ থেকে অপহরণ মামলা ইত্যাদি করে থাকে। কিন্তু এ মামলাগুলো করার আগে বাদীকে ভাবতে হবে সত্য মামলা করছেন কি-না। নতুবা মিথ্যা মামলার অভিযোগে বাদীকে কিন্তু ৭ বছরের জেল কাটতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৭ ধারায় মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়ের বিষয়ে বলা রয়েছে, ‘যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতি সাধনের অভিপ্রায়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন বা করান কিংবা এ মিথ্যা দায়েরের কারণ সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়েরে সহায়তা করেছেন উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডে ও দন্ডনীয় হবেন।’
তবে আদালত নিজ থেকে মিথ্যা মামলার অভিযোগ আনয়ন করবেন না। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি অর্থাৎ আসামীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল ধারা ১৭ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করতে পারবে। সুতরাং ১৭ (২) উপ-ধারার বিধান অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল সরাসরি মিথ্যা অভিযোগের জন্য ব্যবস্থা নিতে পারবে না বা কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলতে পারবে না।
এ বিষয়ে Nurul Huq V. Stat 23 BLD (HCD) 300 ৩০০ মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন ‘The Nari- o- Shishu Nirjatan Daman Ain 2000 does not empower the tribunal created under section 26 to take cognizance against any person who has filed a false case,
in the absence of any written complaint made by any person under sub section (2) of the said section and the Tribunal has no authority to direct the Magistrate or any other person to file any such complaint to enable it to take such cognizance.’
সুতরাং কথায় কথায় মিথ্যা অভিযোগকারীরা সাধু সাবধান। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে জেল, জরিমানার সহজ হাতিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা।