
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক
কেউ যদি আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনী কী প্রতিকার রয়েছে। বিশেষ করে দেওয়ানী আদালতের আদেশ, নিষেধাজ্ঞা, রায় বা ডিক্রি ভঙ্গ করলে ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে আপনি কিভাবে প্রতিশোধ নেবেন, কিভাবে আদেশ ভঙ্গের বিরুদ্ধে ভায়োলেশন কেস করে জেল জরিমানা দেবেন সে বিষয়ে আজকের নিবন্ধ।
কোন মামলার বিরোধীয় বিষয় নিয়ে যদি কোন পক্ষ কর্তৃক ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্থ কিংবা সম্পত্তি বেচা-বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে আদালত উক্ত প্রচেষ্টা রোধ করতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারে। কিন্তু কেউ যদি আদালতের এ আদেশ অমান্য করে, তাহলে আদালত দেওয়ানী কার্যাবিধির ৯৪ (ক) এবং ৩৯ আদেশের ২(৩) বিধি অনুযায়ী তাকে অনধিক ৬ মাস দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখার নির্দেশসহ অর্থদ- দিতে পারেন। উ”চ আদালত বলছেন, নিষেধাজ্ঞা আদেশ অমান্য করার দায়ে ভায়োলেশন মামলা করা যায়, তবে আদালত অবমাননার মামলা রক্ষণীয় নয়।
কিš‘ ভায়োলেশন মামলাায় বিবাদী ই”ছাকৃতভাবে, না অজ্ঞাতবশতঃ অমান্য করেছে, সে বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে মর্মে-৫৩ ডিএলআর, ৭০ (এডি) একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে বিবাদী যে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে এটা কিš‘ বাদীকে অর্থাৎ-দরখাস্তকারীকেই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি জ্ঞাতসারে আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছেন। (৪৫ ডিএলআর ৭১৮)।
ভায়োলেশন মামলায় দেওয়ানী আদালত এমনভাবে ইস্য্যু ফ্রেম করবেন যাতে ফৌজদারী মামলায় চার্জের সব উপাদানগুলো সেখানে নিহিত থাকে। এরকম পš’ায় ইস্যু ফ্রেম করার উদ্দেশ্য হ”েছ, বিবাদী যাতে নিজেকে ডিফেন্ড করা থেকে কোনরুপ বঞ্চিত না হয় কারণ এটি এখন দেওয়ানী মামলার রুপ থেকে ফৌজদারী মামলায় রুপ পরিগ্রহ করছে; (৯ ডিএলআর ৪৪৪)।
কাজেই কেউ যদি আদালতের আদেশ অমান্য করে তাহলে কিভাবে ভায়োলেশন কেস করবেন আর যার বিরুদ্ধে ভায়োলেশন কেস হয় তিনি কিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন, উভয় পক্ষের ডিফেন্স, আইনী পরামর্শ ও উ”চ আদালতের সিদ্ধান্ত জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।