ঢাকা[bangla_day], [english_date]
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ক’ তালিকার অর্পিত সম্পত্তি: ট্রাইব্যুনালের সময় পেরিয়ে গেলেও রয়েছে আইনি প্রতিকার

admin
October 2, 2026 1:34 pm
শেয়ার:
Link Copied!

এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
আপনার পৈতৃক বা কেনা জমি দলিল, নামজারি ও খাজনা-রসিদসহ আপনারই দখলে। অথচ হঠাৎ জানলেন, ২০১২ সালের গেজেটে সেটি ‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি। দেশের বহু পরিবার আজ এই অবস্থায় আছে।
আপিল বিভাগ আরতি রানী পাল বনাম সুদর্শন কুমার পাল (৫৬ ডিএলআর, এডি) মামলায় একটি মূলনীতি স্থির করেছেন। ১৯৭৪ সালের ২৩ মার্চ শত্রু সম্পত্তি আইন রহিত হওয়ার পর নতুন করে কোনো সম্পত্তি অর্পিত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যায় না; করলে তা অবৈধ।
এই নীতির ওপর দাঁড়িয়ে হাইকোর্ট ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মোছা. পলি বনাম ভূমি সচিব (রিট পিটিশন নং ১১২২২/২০২৫) মামলায় রায় দেন। আবেদনকারীরা তালিকাভুক্তির কথা জানতেন না, তাই নির্ধারিত সময়ে ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেননি। গেজেটেই দেখা যায়, ভিপি কেসটি ১৯৭৭ সালের। আদালত বলেন, তালিকাভুক্তিকেই অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করা হলে ট্রাইব্যুনালে না গিয়েও রিট রক্ষণীয়, কারণ এটি সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদের সম্পত্তির অধিকারের প্রশ্ন। রুল চূড়ান্ত করে জমিটি অবিলম্বে তালিকা থেকে অবমুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
রিটে প্রতিকার পেতে পাঁচটি শর্ত আদালতকে দেখাতে হবে।
১। গেজেট অনুযায়ী সম্পত্তিটি ২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পরে অর্পিত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
২। সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক কখনোই জমির দখল নেয়নি।
৩। মূল রেকর্ডীয় মালিক থেকে উত্তরাধিকার বা রেজিস্ট্রি দলিলমূলে
মালিকানার ধারাবাহিকতা আছে।
৪। খতিয়ান, নামজারি, খাজনার রসিদ ইত্যাদিতে নিরবচ্ছিন্ন দখল প্রমাণিত।
৫। সরকারপক্ষ পাল্টা প্রমাণ দিয়ে এসব কাগজ খণ্ডন করতে পারেনি।
ক। নিজ মৌজার ‘ক’ তফসিলের গেজেট সংগ্রহ করে ভিপি কেসের নম্বর ও তারিখ মিলিয়ে দেখুন।
খ। সিএস, এসএ, আরএস খতিয়ান, সব দলিল, নামজারি ও খাজনার রসিদ গুছিয়ে রাখুন।
গ। গেজেটে খতিয়ান, দাগ বা মালিকের নামে গরমিল থাকলে চিহ্নিত করুন; পলি মামলায় এমন গরমিলও আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন।
ঘ। ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান থাকলে সেটি চালিয়ে যান।
ঙ। রিট করার আগে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
রিট সবার জন্য খোলা দরজা নয়। ভিপি কেস ১৯৭৪-এর আগের হলে, জমি সরকারের দখলে বা লিজে থাকলে, কিংবা মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে পথ ট্রাইব্যুনালই। তবে যাঁদের জমি ১৯৭৪-এর পরে তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং বরাবর নিজেদের দখলেই আছে, উচ্চ আদালত তাঁদের জন্য প্রতিকারের পথ দেখিয়েছেন।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইন গবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬-৮৫৬৭২৮

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।