
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
চেক ডিজঅনার (চেক প্রত্যাখ্যান) মামলায় অনেক সময় আসামি বলেন, “বাদীর আয় তো সামান্য, তিনি এত টাকা ধার দিলেন কীভাবে?” ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি কুন্তেগৌড়া বনাম থুরুবাইয়া (২০২৬), আই.এন.এস.সি-৭৯০ মামলায় বলেছেন, শুধু এমন সন্দেহ তুলে পাওনা টাকা অস্বীকার করা যাবে না।
১. চেকে সই স্বীকৃত বা প্রমাণিত হলে আইন ধরে নেয়, চেকটি বৈধ পাওনা পরিশোধের জন্যই দেওয়া হয়েছিল। তখন উল্টোটা প্রমাণের দায়িত্ব আসামির।
২. “আমি টাকা নিইনি” বলা যথেষ্ট নয়। সাক্ষী, কাগজপত্র বা বাদীপক্ষকে জেরা করে দেখাতে হবে যে আসলে কোনো দেনা ছিল না।
৩. বাদীর আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রাথমিক দায়িত্ব আসামির। এই আপত্তি শুরুতেই, অর্থাৎ আইনি নোটিশের জবাবে স্পষ্টভাবে তুলতে হবে। তা না হলে বাদীকে নিজ থেকে তাঁর সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে না।
৪. আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য কখন তোলা হলো এবং তা আগাগোড়া একই রকম ছিল কি না, আদালত তা বিবেচনা করেন। পরে বানানো অজুহাত সহজে টেকে না।
বাদীর মাসিক আয় কম ছিল, তবে তিনি বিভিন্ন ব্যবসা ও চিট ফান্ডে (সমিতি ধরনের সঞ্চয় তহবিল) বিনিয়োগ করতেন। তিনি আরও দুজনের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করেছিলেন, এবং সেই দুই সাক্ষী আদালতে তা সমর্থন করেন। অন্যদিকে আসামি “চেকের অপব্যবহার হয়েছে” বলে যে দাবি করেন, তা তিনি পরে তুলেছিলেন এবং এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি।
ফলে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের খালাসের রায় বাতিল করে বিচারিক আদালত ও আপিল আদালতের দেওয়া সাজা বহাল করেন।
বাদীর সামর্থ্য না থাকা একটি বৈধ আত্মপক্ষ সমর্থন হতে পারে, তবে তা সময়মতো তুলতে হবে এবং প্রমাণ দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। শুধু সন্দেহ দিয়ে আইনের অনুমান খণ্ডন করা যায় না।
রায়টি ভারতের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলায় দেওয়া। বাংলাদেশেও একই নামের আইনে একই ধারা আছে, তবে এ দেশের আদালতে এই রায় বাধ্যতামূলক নয়, কেবল সহায়ক নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইন গবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
