হারানো বা জোর করে নেওয়া চেকে মামলা? আইন আপনার পাশে আছে
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
চেক হারিয়ে গেছে, কিংবা কেউ ভয় দেখিয়ে আপনার কাছ থেকে চেক লিখিয়ে নিয়েছে। পরে সেই চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে ডিস্অনার করে আপনার বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকে দিয়েছে। এমন বিপদে পড়া মানুষের সংখ্যা কম নয়। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
শফিকুল আলম ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র মামলায় [৭ এ.এল.আর ২০১৬ (১), হাইকোর্ট বিভাগ, পৃষ্ঠা ০১] হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, হারিয়ে যাওয়া বা জোরপূর্বক আদায় করা চেক প্রত্যাখ্যাত হলেও তা হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অপরাধ হয় না।
আইনের ৮ ও ৯ ধারা অনুযায়ী, চেকের টাকা দাবি করতে পারেন কেবল তার বৈধ ধারক, অর্থাৎ যিনি ন্যায্য পাওনার বিনিময়ে সৎভাবে চেকটি পেয়েছেন। আর ৫৮ ধারা বলছে, হারানো চেক কুড়িয়ে পাওয়া বা প্রতারণা, ভয়ভীতি ও অবৈধ উপায়ে চেক হাতিয়ে নেওয়া ব্যক্তি সেই টাকা দাবি করার অধিকারী নন। যিনি বৈধ ধারকই নন, তিনি চেক প্রত্যাখ্যানের মামলাও করতে পারেন না।
চেক হারালে দেরি না করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন।
ব্যাংকে লিখিতভাবে ওই চেকের টাকা পরিশোধ বন্ধ রাখার আবেদন দিন।
জোর করে বা ভয় দেখিয়ে চেক নেওয়া হলে থানায় বা আদালতে অভিযোগ করুন।
আইনি নোটিশ পেলে চুপ থাকবেন না। ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত জবাবে প্রকৃত ঘটনা জানান।
জিডির অনুলিপি, ব্যাংকের আবেদন, সাক্ষী ও অন্যান্য প্রমাণ যত্নে রাখুন।
মনে রাখবেন শুধু মুখে “চেক হারিয়েছিল” বা “জোর করে নিয়েছে” বললে হবে না, আদালতে তা প্রমাণ করতে হবে। তাই ঘটনার পরপরই নেওয়া লিখিত পদক্ষেপই আপনার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। মামলার মুখোমুখি হলে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
চেক সই করার আগে ভাবুন, আর বিপদে পড়লে সময়মতো আইনের আশ্রয় নিন।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইন গবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
